Home অনলাইন ইনকাম অনলাইনে আয় করার ১০ টি সেরা উপায়

অনলাইনে আয় করার ১০ টি সেরা উপায়

অনলাইনে আয় করার ১০ টি সেরা উপায়

বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ অনলাইনে আয় (Online Income) এর মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। বর্তমানে কমবেশি সবাই সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল। অনলাইনে আয় করার চিন্তা করে থাকেন প্রায় সবাই।

কিন্তু অনলাইনে আয় করার উপায় জানা না থাকায় ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও আয়ের পথ খুঁজে পান না বেশিরভাগ মানুষ। আসলে অনলাইনে কাজের অভাব নেই। তবে সত্যি বলতে অনেকেই ভালো একটা পরিমানের অর্থ অনলাইন থেকে উপার্জন করছে।

বর্তমান যুগে অনলাইনে আয় করার অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে এবং এই সমস্ত মাধ্যম অবলম্বন করে অনেক ব্লগার এবং ফ্রিল্যান্সার হাজার হাজার ডলার নিত্যদিন ইনকাম করছেন। অনেক মাধ্যম দিয়ে ইনকাম করা যায়।  চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে আয় করার জন্য ১০ সেরা উপায়।

আপনাদের আজ সাথে আলোচনা করব ২০২৩ এ অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম গুলো সম্পর্কে। অনলাইন ইনকামের আদ্যোপান্ত জানতে আমাদের এই সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ে আসুন।

অনলাইনে আয় করার ১০ টি সেরা উপায় জেনে নিন

আমরা আজকের এই পোস্টে এমন ১০টি অনলাইন আয়ের উপায় বলবো যেগুলো থেকে আপনি যেমন অনেকটা নিশ্চিন্তে আয় করতে পারবেন, একই রকমভাবে প্রতিদিন স্বচ্ছলভাবে আয়ও করতে পারবেন।  বর্তমানে অসংখ্য মাধ্যম আছে অনলাইনে যেখান থেকে আপনি আয় করতে পারবেন। এর মধ্যে থেকে সেরা ১০ টি উপায় নিচে দেয়া হলোঃ

  • ফ্রিল্যান্সিং করে। 
  • ব্লগিং (Blogging)
  • ইউটিউবিং এর মাধ্যমে আয়। 
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় 
  • ওয়েব ডেভলপমেন্ট করে আয় 
  • গুগল এডসেন্স থেকে অনলাইনে আয়
  • সোশ্যাল মিডিয়া হতে আয়  
  • অনলাইন সার্ভে (Online Survey) করে আয় 
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় 
  • আর্টিকেল লিখে আয় 

আসুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইন আয় করার সেরা ১০টি  উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত। আমি আশা করি এগুলো থেকে আপনি আপনার পছন্দের অনলাইন আয়ের পথটি খুঁজে পাবেন এবং আপনি স্বাবলম্বী হবেন।

অনলাইনে আয় এর অন্যতম জনপ্রিয় উপায় ফ্রিল্যান্সিং 

সবথেকে বেশি মানুষ অনলাইনে যে পদ্ধতিতে রোজগার করে সেটি হলো ফ্রিলান্সিং। বর্তমানে বাংলদেশের বেকারত্ব কমাতে এই খাতটি অনেক বড় ভুমিকা পালন করছে। সেই সাথে অনেক দক্ষ মানুষ এই খাতে কাজ করে আমাদের দেশকে বহির দেশে রিপ্রেসেন্ট করছে।

ফ্রিল্যান্সিং শব্দটির সাথে কমবেশি অনেকেই পরিচিত হয়ে থাকবেন। মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত ধারার চাকুরী না করে বরং স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে কাজ করাকেই বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। ফাইভার, আপওয়ার্ক এর মত ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলো ফ্রিল্যান্সারদের এই যাত্রাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি মাসে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এনে দিচ্ছে বাংলাদেশে। ফ্রিলান্সিং এ যোগদান করে আপনি টাকা ইনকাম করার পাশাপাশি এই গৌরবেরও অংশীদার হতে পারবেন।

এখন আসি কিভাবে শুরু করবেন ফ্রিলান্সিং। ফ্রিলান্সিং বলতে মুলত বিভিন্ন ধরনের কাজ যে কাজে আপনি দক্ষ সে কাজটি একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে করে দেয়া হয়ে থাকে। আপনার দরকার একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা।

এটা হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design), ফটো এডিটিং (Photo Editing), ওয়েব ডিজাইন (Web Design), ওয়েব সাইট মেকিং (Website Making), কপি রাইটিং (Copywriting), কন্টেন্ট রাইটিং (Content Writing), লোগো ডিজাইন (Logo Design), ইত্যাদি ইত্যাদি।

অনলাইন আয় করার অন্যতম প্রধান সুবিধা বলতে হবে সকল দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগকে। ধরুন আপনি ভিডিও এডিটিং এর পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইন (Web Design) খুব দক্ষ। সেক্ষেত্রে  দুই ধরনের কাজ করেই আপনি অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি একাধিক কাজ পারেন সেক্ষেত্রে আপনার টাকা ইনকামের সুযোগ অনেকটা বেশি হয়ে যায়।

কাজ শেখার পর আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিলান্সিং সাইটে যেমন- Freelancer, Upwork, Fiver, ইত্যাদি  সাইটে আপনার তথ্য দিয়ে সুন্দর করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপরে আপনি কোন কোন কাজে পারদর্শী সেগুলো ওই সাইটে মেনশন করে দিতে হবে।

একটা বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকাম সাইট অনেক আছে। তাই যেকোনো ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই ভালো ভাবে সাইটটি দেখে নিতে হবে। যদি সব কিছু আপনার কাছে ভালো বলে মনে হয় কেবল তাহলেই আপনি সেই সাইটে কাজ করা শুরু করবেন।

আপনি যে কাজ পারেন তার প্রমানের জন্য আপনার পূর্বেই সম্পাদিত কোনো কাজ থাকলে সেটা পোর্টফোলিও আকারে ওই ওয়েবসাইটে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দিতে হবে। এতে করে আপনার ক্লায়েন্ট এসে আপনার পোর্টফলিও দেখে পছন্দ করলে আপনাকে তার নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত করবে।

এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ থাকবে অবশ্যই ভালো একটা পোর্টফলিও তৈরি করে নিবেন, কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন হিসাবে আপনাকে ওই পোর্টফোলিও গুলোই কাজ পেতে সহায়তা করবে। প্রথম প্রথম কাজ পেতে অসুবিধা হতে পারে।

সেক্ষেত্রে আপনার পরিচিত যদি ফ্রিলান্সার থাকে তার রেফারেন্স নিয়ে নিতে পারেন। রেফারেন্স এর মাধ্যমে কাজ পেয়ে সেই কাজ শেষ করার পর আপনার প্রথম ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে ভালো একটা রিভিউ দিবে তখন দেখবেন কাজ আসতেই থাকবে।

ব্লগিং (Blogging) এর মাধ্যমে আয়  

অনলাইনে আয় করার একটি অন্যতম মাধ্যম হল ব্লগিং। আপনি ব্লগিং এর মাধ্যমে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেমন, অ্যাড সেল, গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, নিজস্ব প্রোডাক্ট সেল, সার্ভিস সেল করা, এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে কারোর প্রডাক্ট কে প্রমোশন করে দেওয়া।

আপনার ব্লগের মাধ্যমে আরেকজনের  ব্যবসাকে মার্কেটিং করা ইত্যাদি হতে পারে ব্লগিং এর একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বে অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যবসায়ীরা যারা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব প্রোডাক্ট গুলোকে সেল করছে এবং তাদের ব্যবসাকে বর্ধিত করছে ব্লগের মাধ্যমে।

ব্লগিং অনলাইন আয়ের বেশ পুরাতন একটি মাধ্যম। কিন্তু এটি অনেক কার্যকরী একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা প্রতি মাসেই আয় করা সম্ভব। এটি মূলত একটি ডিজিটাল নিউজ পেপার এর মতো। আপনি আপনার মন মতো কোনো একটি বিষয় নিয়ে লিখবেন। এবং যার ওই বিষয়টি জানার দরকার সে এসে পড়ে যাবে।

আপনি এখন যে নিবন্ধটি পড়ছেন সেটিও একটি ব্লগ সাইট। তাহলে বুঝতেই পারছেন ব্যাপারটা কী। লেখালেখি যদি আপনার আগ্রহ হয়, তাহলে আপনি সহজেই এখান থেকে আয় করতে পারবেন। আপনার যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ, জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা আছে সেই বিষয়ে ব্লগিং করা সবচেয়ে উপকারী।

আপনি সেরা যে নিশে কাজ করতে পারেন। নিশ মূলত খেলাধুলা, প্রযুক্তি, আইন, রান্না, জীবনী, ভ্রমণ ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট বিভাগগুলিকে বোঝায়।

উদাহরণস্বরূপ, ভ্রমণের ক্ষেত্রে, কোথাও ভ্রমণের সময় আপনি কী অভিজ্ঞতা বা শিখেছেন সে সম্পর্কে আপনি একটি বিস্তারিত ব্লগ লিখতে পারেন।

এখন মূল বিষয় হল আপনি সেগুলি কোথায় লিখবেন। একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে শুরু করুন। সর্বোপরি, আপনি নিজেই একটি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন। এখন কোনো খরচ ছাড়াই ব্লগ সাইট তৈরি করা খুবই সহজ। কিন্তু মানুষ ফ্রি সাইট কম বিশ্বাস করে।

তাই আমাদের পরামর্শ হবে প্রথমে অল্প টাকা খরচ করে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে একটি আকর্ষণীয় সাইট তৈরি করুন। তারপর সেখানে লেখা শুরু করুন। অল্প সময়ে খুব ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন।

এইভাবে ব্লগিং শেষ পর্যন্ত আপনার ব্র্যান্ডিং উন্নত করবে এবং আপনার আয় বৃদ্ধি করবে। এবং ভবিষ্যতে আপনার সাইটের দাম অনেক বেশি হবে। বিশেষ করে একটি ভালো সাইটের দাম কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত।

আর ফ্রি সাইটের ক্ষেত্রে গুগল আপনাকে পুরো ডোমেইন দেবে না। সেক্ষেত্রে আপনি সাব ডোমেইন হিসেবে কাজ করতে পারেন। এইভাবে একটি ব্লগ সাইট খুললে, আপনি BlogSpot দিয়ে 10 মিনিটের মধ্যে একটি ব্লগ সাইট খুলতে পারবেন।

আর এক্ষেত্রে আপনি সহজেই মোবাইল এবং কম্পিউটার উভয় মাধ্যমেই কাজ করতে পারবেন। তাই যারা মোবাইলে অনলাইন আয়ের কথা ভাবছেন তাদের জন্যও এটি একটি সেরা সুযোগ হতে পারে।

তবে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে আপনার যদি কিছু ধারণা থাকে তবে আপনি খুব সহজেই আপনার ব্লগে প্রচুর ট্রাফিক বা ভিজিটর আনতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার আয়কে বহুগুণ করতে পারবেন।

ইউটিউবিং এর মাধ্যমে আয়

অনলাইনে আয় করার আরেকটি অসাধারণ পথ হলো ইউটিউবিং করা। অনলাইন আয় এর পথ হিসাবে ইউটিউব এর কথা হয়ত আপনি অনেকবার শুনে ফেলেছেন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অনেক বড় বড় ইউটিউবার আছে যারা মাসে ইনকাম ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করছেন। হাঁ আপনিও কিন্তু চাইলেই ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করা শুরু করে পারেন।

আপনার দরকার হবে একটি ক্যামেরার । তবে আপনার ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। প্রথমে অনেক বড় বড় ইউটিউবার-ই মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে শুরু করেছেন তাদের ইউটিউব যাত্রা। সফল হওয়ার পরে এখন তারা দামি দামি গেজেট ব্যবহার করে থাকেন।

আপনার কন্টেন্ট যদি ভালো হয়ে থাকে, প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে যদি আপনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে পারেন, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আপনি ভালো ভিউয়ার পেয়ে যাবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি ছোট্ট টিপস দিয়ে রাখি, আপনারা যদি সত্যিই প্রফেশনালভাবে ইউটিউবে কাজ করতে চান তাহলে ভিডিওর অডিও ও ভিডিও এডিটিং খুবই ভালো ভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

ইউটিউব করে ইনকাম করার  ক্ষেত্রে কিন্তু কনটেন্ট আপলোডের পর থেকেই ইনকাম করতে পারবেন এমনটা না। ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে চাইলে কনটেন্ট আপলোডের পাশাপাশি সবার আগে চ্যানেল মনেটাইজ হতে হয়। চ্যানেল মনেটাইজ হওয়ার জন্য আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ঘন্টা ওয়াচ আওয়ার টাইম  প্রয়োজন হয়।

সর্বনিম্ন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ন্যূনতম ভিউ টাইম হয়ে গেলে আপনি ইউটিউব মানিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর পরে প্রতিটা ভিডিওতে মানিটাইজেশন একটিভেট করে নিতে হবে। আর এভাবেই  আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে।

আরও দেখুনঃ শিক্ষক নিবন্ধন MCQ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস

যেহেতু এই প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রাইবার ও ওয়াচ টাইম  পূর্ণ করতে অনেক সময় লাগে, তার মানে হলো ইউটিউবিং করে ইনকাম শুরু করতে হলে প্রথমে আপনার বেশ কয়েক দিন খাটতে হবে। তবে মজার ব্যাপার হলো আপনার চ্যানেল একবার স্পটলাইটে আসলে খুব সহজেই গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন আয়ের পথ আপনার খুলে যাবে।

ইউটিউব থেকে আয়ের একাধিক রকমের পথ রয়েছে। বর্তমানে ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়াও আপনি বিভিন্ন জায়গা থেকে স্পন্সারের মাধ্যমেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন। দেখা গেলো কোনো একটা কোম্পানি কোনো একটা পন্যের মার্কেটিং এর জন্য আপনার ভিডিও তে তার ওই পন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে দিল।

আপনি এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দিতে সম্মতি প্রকাশ করলে আপনাকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সে পেমেন্ট করবে। যেমনঃ প্রোডাক্ট প্রোমোশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইত্যাদি। এভাবে অসংখ্য ইউটিউবার মোটা অংকের আয় করে থাকেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক জনপ্রিয় একটি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

মূলত অন্যের প্রোডাক্ট প্রোমোট ও বিক্রি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়ে থাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অর্থাৎ অন্য আরেকজনের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোমোট করতে থাকবেন। আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে তৈরী হওয়া লিড, সেলস অথবা লিংক ক্লিক এর জন্য আপনি একটি  কমিশন পাবেন – এটিই মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল ধারণা।

বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ই-কমার্স সাইট আছে এদের ভেতরে অনেকগুলো আবার সারা বিশ্বেই পন্য ডেলিভারি করে থাকে। এইসব E-Commerce সাইটে প্রত্যেকটাতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নামে একটি সেকশন খোলা রয়েছে।

আপনি এসকল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে খুব সহজেই তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারবেন। তারপর আপনার একটা সুন্দর গ্রুপ তৈরি করতে হবে বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে। আশা করছি এরকম গ্রুপ আমাদের প্রতিটি মানুষেরই আছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

নির্দিষ্ট ই-কমার্স E-Commerce সাইট থেকে আপনি বিভিন্ন পন্যের বিবরন সহ ওই লিঙ্ক কপি করে এই সকল গ্রুপে পাঠাতে হবে। এবার ওখানে থেকে ওই লিঙ্কে ক্লিক করে যদি কেও পন্যটি ক্রয় করে থাকে তাহলে আপনি সেটার থেকে নির্দিষ্ট পরিমানের একটি কমিশন পাবেন।

বর্তমানে দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়। এখানে বিপুল পরিমান আয় করার সুযোগ তৈরী হয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম।

তবে এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং সর্ম্পকেও পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক টাকায় ইনকাম করা সম্ভব হয় যদি আপনি ভালো একটি কমিউনিটি তৈরি করতে পারেন। এছাড়া আপনি চাইলে এখান থেকে ই-মেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমেও টাকা ইনকাম করতে পারেন।

তার জন্য আপনার দরকার অনেক গুলো একটিভ ই-মেইল। আপনি যদি এক হাজার একটিভ ইমেইল ম্যানেজ করতে পারেন, তাহলেই খুব সহজে এখানে থেকে ইনকাম করে ফেলতে পারেন।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট করে আয়

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যেহেতু বাড়ছে, তাই বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হচ্ছে নতুন নতুন  ওয়েবসাইট তৈরী করার। আর এসব সাইট তৈরির জন্য দরকার ওয়েব এক্সপার্টের। আপনি যদি ওয়েব ডেভলপমেন্টে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে দেশে ও বিদেশের প্রচুর কাজ করতে পারবেন।

ওয়েব ডেভলপমেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট মেইনটেইন এর জন্য লোক নিয়োগ করে থাকে। আর এসবে কাজ পেলে পরিশ্রমের চেয়ে পারিশ্রমিক বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডিজাইন করে আয় করার বিষয়টি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত বলা চলে।  এই বিষয়ে ফ্রিলান্সিং (Freelancing) করেও আয় করা যায়।

আপনি যদি ওয়েব ডেভলপমেন্টে যথেষ্ট রকমের পারদর্শী হন, সেক্ষেত্রে আপনার নিজেরই বিভিন্ন ওয়েব রিলেটেড প্রোডাক্ট তৈরী করে বিক্রি করতে পারবেন। যেমনঃ আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস কোডিং এর ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য থিম বা প্লাগিন তৈরী করেও অসাধারণ আয় করতে পারবেন।
এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েব ডেভলপমেন্ট সম্পর্কিত আরেকটি ডিমান্ডিং একটি স্কিল। আপনি যদি এসইও (SEO) এর ক্ষেত্রে দক্ষ হোন, সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের এসইও (SEO) এর কাজ করেও ভালো অংকের অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে অনলাইনে আয়

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের একটি জনপ্রিয় এড নেটওয়ার্ক। গুগল অ্যাডসেন্স ২০০৩ সালের ১৮ জুলাই রিলিজ হয়েছে। বর্তমানে দুই মিলিয়নেরও বেশি গুগল অ্যাডসেন্স পাবলিশার রয়েছে। প্রতিমাসে এডসেন্স গুগোল পাবলিশারদের কে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পেমেন্ট করে ত্থাকেন।

নিশ্চিত আপনি বুঝতে পারছেন গুগল এডসেন্স এর পরিধি কতটা বিশাল। আপনি চাইলে আপনার কাজের ফাঁকে, আপনার ব্যবসার অবসর সময়ে, এবং আপনার অতিরিক্ত সময় কাজ করে গুগোল অ্যাডসেন্সকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই লক্ষ লক্ষ টাকা  ইনকাম করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে হলে প্রথমেই আপনার একটি ওয়েব সাইট থাকা আবশ্যক। যে ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স এর এড বসিয়ে আপনি  ইনকাম করতে পারবেন। হতে পারে সেটি আপনার একটি পেইড বা ফ্রি ব্লগ।

এছাড়া গুগলের একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যার নাম ব্লগস্পট, সেখানে আপনি ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন। আপনার ওয়েব সাইটে নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করতে হবে। নিয়মিত ভালো ভালো বিষয়  পোস্ট করতে হবে যেটা ভিজিটররা দেখবে সাথে আপনার বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে এবং সেখান থেকে আপনি অনেক  টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আরও দেখুনঃ প্রশ্নোত্তর বিভাগ

অথবা আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে আর সেখানে যদি অনেক পরিমান ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি সেই ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্সের এড মনেটাইজ করেও ইনকাম করতে পারবেন।

এছাড়া আপনার যদি গুগল প্লে স্টোরে একাউন্ট থাকে এবং আপনি অ্যাপস ডেভলপার হন তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার অ্যাপ এ গুগল এডসেন্স এর এড ব্যবহার করে এই অ্যাপস থেকে বিপুল পরিমান টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া হতে আয়

আমরা সবাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকি। এই সকল সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু অনলাইনে ইনকামের প্রধান একটি মাধ্যমে হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার মাধ্যমে অনলাইনে ইনকামের ক্ষেত্রে এই তালিকার একাধিক উপায় কাজে আসতে পারে। যেমনঃ ফেসবুক, এটি বর্তমানে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশ ভালো অবদান রাখছে। আবার আপনি ব্লগিং করলে বা নিজের ওয়েবসাইট থাকলে তার প্রোমোশনের জন্যও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে ইনকাম এর প্রধান ট্রাফিক উৎস হতে পারে।

এসবের পাশাপাশি ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে লাইভে গিয়ে পণ্য বিক্রি করেও আয় করা সম্ভব। তাছাড়া ফেসবুক পেজ মনিটাইজ করে আয় করতে পারেন। আবার অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তাদের পেজ বা প্রোফাইল ম্যানেজের জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে সেখানে কাজ নিতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি যদি ইনফ্লুয়েন্সার এর ভূমিকা পালন করতে পারেন, তাহলে তো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনলাইন ইনকামের অনেক পথ রয়েছে।

অনলাইন সার্ভে (Online Survey) করে আয় 

বিভিন্ন কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন গ্রাহকেদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সার্ভে করে থাকে। বিভিন্ন দেশে তো সরকারীভাবেও বিভিন্ন সার্ভে করা হয়ে থাকে। একটি দেশের সার্বিক অবস্থায় দেশের জনগন কতটা সন্তুষ্ট এটা জানার জন্য সরকার এই সার্ভে গুলো করে থাকে। তবে বড় বড় কোম্পানিগুলো বেশির ভাগ সময় অনলাইন সার্ভের ব্যবস্থা করে থাকে।

এইসব সার্ভে সাধারনত পেইড ভাবে হয়ে থাকে। আপনি চাইলেই এসব সার্ভে করে প্রতি মাসে ভালো  ইনকাম করে ফেলতে পারবেন।  বড় বড় কোম্পানিগুলো তো একটি সার্ভের জন্য প্রায় ১০০ ডলার পর্যন্ত খরচ দিয়ে থাকে। আর এইসব সার্ভে গুলো নির্দিষ্ট একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে পরিচালিত করে থাকে।

এর জন্য আপনাকে প্রথমে ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খুলে নিতে হবে। তারপর আপনার সব ধরনের  ইনফর্মেশন দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপডেট করে নিলেই আপনি কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত হবেন। তবে প্রতিটি সার্ভেতেই আপনি কুয়ালিফাই হতে পারবেন না, শুধু মাত্র যেসকল সার্ভে আপনার অ্যাকাউন্ট-এ দেওয়া তথ্যের সাথে মিল থাকবে সেগুলোই আপনি করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়

ডিজিটাল যুগে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং আকাশছোঁয়া হবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে ব্যাপক ভাবে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা বেড়েছে। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ভালো দক্ষ হন, তাহলে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে তো বটে, এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির বিনিময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করতে পারবেন। এবং মাসে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

আর্টিকেল লিখে আয় 

অনলাইনে আয় করবেন কিভাবে?

আচ্ছা আপনি কি ভালো কনটেন্ট বা আর্টিকেল লিখতে পারেন? ক্রিয়েটিভ কোন বিষয়  রিচার্জ করতে কি পছন্দ করেন? সেক্ষেত্রে আপনি  আর্টিকেল লিখে অনলাইন থেকে খুব ভাল পরিমানে অর্থ আয় করতে পারবেন।

বর্তমান অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আর্টিকেল লেখা বা লেখকদের অনেক মূল্য রয়েছে। এরকম হাজারো ওয়েব সাইট রয়েছে যেখানে আপনি আপনার আর্টিকেল সাবমিট করে ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার আপওয়ার্ক এই ধরনের ফ্রীলান্সিং ওয়েবসাইটেও আর্টিকেল লেখার অনেক মূল্য।

সুতরাং আপনি যে কোন বিষয়ে ভালো লিখতে পারলে আপনি অবশ্যই ভালো পরিমাণে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।

পরিসমাপ্তি

অনলাইনে আয় (Online Income) বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি বিষয় যা সহজেই ঘরে বসে ইনকাম  এবং নিজেই নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম একটি মাধ্যম। হাজার হাজার বেকার যুবক এভাবেই বসে না থেকে কাজ করছে। যাইহোক, মূলত আমাদের আজকের আলোচনা এখানেই শেষ।

মূল্যবান সময় নষ্ট না করে যেকোনো একটি কাজ বেছে নিয়ে কাজ শুরু করে দিন। আশা করি আপনি অবশেষে সফল হতে পারবেন।

আমাদের এই লেখাটি আপনার ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। আর যে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

 

পোষ্টটি লিখেছেন

এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডিশিক্ষা বিষয়ক খবর সবার আগে
এডু হেল্পস বিডি শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমউনিটি ওয়েবসাইট। এডু হেল্পস বিডি এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সুন্দর কমিউনিটি তৈরি করা। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা ও লেখাপড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

error: Content is protected !!