সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনার কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে

আজকের টপিক সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে কোন কোন যোগ্যতা থাকতে হবে কিংবা কি কি করতে হবে সেবিষয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাচ্ছি। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

বাংলাদেশের মত দেশ যেখানে পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না, যেখানে  শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ৪৭% বেকার, সেখানে বিকল্প পেশা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থায় আছে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ বেশ ভাল অবস্থানে আছে, বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ পেশাদারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে শত কোটি টাকার। হিসেব মতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লক্ষাধিক।

ফ্রিল্যান্সিং যেমন সম্ভাবনা, তেমনি এ নিয়ে আছে প্রচুর ভুল ধারণা, আবার ভুল ধারণাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ। এ সব নিয়েই আলোচনা হবে এই লেখাতে।

ফ্রিল্যান্সিং হল কোন প্রতিষ্ঠানে পার্মানেন্ট চুক্তিবদ্ধ না হয়ে বরং প্রজেক্ট বেসিসে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং করে আসছে মানুষ শত বছর ধরে। যেমন একজন রিক্সাওয়ালাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ সে অন্যের রিক্সা চালায়, ইচ্ছা হলে প্যাসেঞ্জার নেয়, নাহলে নেয় না। তার ফ্রিডম আছে। ইদানিং ফটোগ্রাফাররাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ তারা কোথাও ফটোগ্রাফার হিসাবে চাকরি না করে বরং অনুষ্ঠান বেসিসে শুট করে আর পারিশ্রমিক নেয়।

সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজ নয়, কাজ করার ধরণ মাত্র।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মানে হল,  অনলাইনের মাধ্যমে  যে কাজ ক্লায়েন্ট আপনাকে দিবে, আপনি সে কাজে চুক্তিবদ্ধ হবেন, নিজের দক্ষতা দিয়ে কাজটা করবেন, আর সেটা অনলাইনের মাধ্যমেই ক্লায়েন্টকে ডেলিভার করবেন, আর অনলাইনের মাধ্যমেই  ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট করবে। এখানে অনলাইনে কাজ করেননি, কাজ আপনার দক্ষতা দিয়েই করেছেন, শুধু মাধ্যমটা অনলাইন, যোগাযোগের মাধ্যম। যেমন ফোনে কোন কাজের ডিল হলে নিশ্চয় আপনি এটাকে ফোনে আয় করা বলেন না, তেমনি এটাও অনলাইনে ইনকাম নয়।

 ফ্রিল্যান্সারফ্রিল্যান্সিংআউটসোর্সারআউটসোর্সিং কি ? এখন একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই।

ধরুন আপনি ভাল একাউন্টিং করেন। আমেরিকার এক ক্লায়েন্টের কোম্পানির ১৫ দিনের একাউন্ট অডিট করতে হবে। সে অনলাইনে একটা প্ল্যাটফর্মে অফার করল। অনেকের মত আপনি অ্যাপ্লাই করলেন। আপনি কাজটা পেলেন। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পেমেন্টের বিনিময়ে  আপনি চুক্তিবদ্ধ হলেন।  আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে কাজটা সম্পন্ন করলেন, আপনি  কাজটা অনালাইনের মাধ্যমে ডেলিভার করলেন, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট  দিল।

তাহলে,

ফ্রিল্যান্স কাজ কে করল? আপনি!

ফ্রিল্যান্সার কে? আপনি!

ফ্রিল্যান্সিং কে করল? আপনি!

আউটসোর্স কে করল? ক্লায়েন্ট!

আউটসোর্সার কে? ক্লায়েন্ট

আউটসোর্সিং কে করল? ক্লায়েন্ট!

অর্থাৎ আপনি কিন্তু আউটসোর্সিং করছেন না। ক্লায়েন্ট আউটসোর্সিং করছেন!

মার্কেটপ্লেস

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো যে সকল ওয়েব সাইটে পাওয়া যায় সে সকল সাইটকে মার্কেটপ্লেস বলে।
কিছু জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস এর উদাহরণ দেওয়া হলঃ
১. UPwork
২. Freelance
৩. Fiverr
৪. 99 designs

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ক্যারিয়ার কিভাবে শুরু করবেন?

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিভিন্ন মার্কেট প্লেস এর কাজ এর বর্ননা (ইংরেজি) পরে বুঝতে হবে এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ (ইমেইল, চ্যাট) জানতে হবে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। নিজস্ব কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যয় থাকতে হবে।

মনকে আগে স্থির করুন

আমাদের মন সহজেই অন্যের দ্বারা প্রবাভিত হয়। পাশের বাসার মন্টু মিয়া এসইও ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করে। ফ্রিল্যান্সার মন্টু সাহেবের কোর্স করলেই ইনকাম নিশ্চিৎ। মন্টু মিয়ার ছেলে, বয়স মাত্র ১৫ বছর, গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখেই মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করে। এধরনের নানান বিষয় আমাদের চারপাশে ঘুরতে থাকে। ঠিক তখনই আমাদের মাথার ভিতর ঘুরতে থাকে কি করবো কিংবা কি করা যায়? মূল বিষয় হলো আগে আপনি নিজের মনকে স্থির করেন। নিজেকে প্রশ্ন করেন, ফ্রিল্যান্সিক করার মত ধৈর্য্য কিংবা সময় আপনার হাতে আছে কিনা। যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন তাহলে পরের প্যারাটি আপনার জন্য।

শিখতে হবে একটু ভিন্ন ভাবে

দিন যত যাচ্ছে, প্রতিটা কাজের কম্পিটেশন ততো বাড়ছে। তাই আপনাকে আগে পরিপূর্ন ভাবে শিখতে হবে। সবাই কাজ শিখতে পারে আর যারা একটু ভিন্ন ভাবে এডভান্স কাজ শিখতে পারে তাদের ডিমান্ড কিন্তু প্রচুর। আমাদের সমাজে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, একটু বেসিক ধারনা দিয়েই নামিয়ে দেয় ফাইভারে গিগ খুলতে, নয়তো উৎসাহ দেয় আপওয়ার্কে কাজ করুন। তবে আমি বলছি, এটা সম্পূর্ন ভুল সিদ্ধান্ত। আগে একটা বিষয়ে খুব ভালো ভাবে শিখুন। প্রয়োজনে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় দিন। নিজেকে আগে যোগ্য প্রমান করুন। দেন কাজের পিছনে ছুটুন। যদিও আমি বলি, আপনি যদি শেখার পিছনে ছোটেন তাহলে কাজ আপনার পিছনে ছুটবে। আর যদি আপনি কাজের পিছনে ছোটেন তাহলে কাজ উল্টা দিকে পালিয়ে যাবে।

দক্ষতা অর্জন করুন

কাজ পছন্দ করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, আপনার যদি ধৈর্য থাকে তবে অনলাইনে (ইউটিউব, গুগল) শিখতে পারেন অথবা কোন মানসম্পন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকেও শিখতে পারেন,তবে ট্রেনিং সেন্টার থেকে শেখার আগে ট্রেইনার নিজে কাজ করে কিনা যাচাই করে দেখুন।

মার্কেট প্লেসে নিজের প্রোফাইল তেরী করুন

দক্ষতা অর্জনের আগে অথবা পরে মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল তৈরী করতে পারেন তবে একজন ফ্রিল্যান্সারের দক্ষতা অর্জন করার আগে কাজে বিড করা উচিৎ নয়। বিড করার জন্য আগে কাজ সম্পর্কে ভালো ধারনা নিতে হবে। সুন্দর প্রোফাইল তৈরী করার জন্য একাউন্ট খুলুন, নিজের কাজের স্যাম্পল তৈরী করে প্রোফাইল তৈরী করার সময় অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

পছন্দের কাজ ও সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট খুজুন

অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন কিভাবে কাজ খোজা উচিৎ। প্রথম ১-২ মাস কাজ নাও পেতে পারেন। চেষ্টা করতে থাকুন ফেইল করলে ভুলগুলো শুধরে আবার চেষ্টা করুন। ধৈর্য্য ধরে নিজেকে আরও দক্ষ বানানোর জন্য নতুন নতুন কৌশল শেখার চেষ্টা করুন। একটা সময় কাজ পেয়ে যাবেন এবং সেই কাজ করার পর ক্লায়েন্ট এর কাছে পাঠানোর পর যে পেমেন্ট পাবন তা আপনার মার্কেট প্লেস এর একাউন্টে জমা থাকবে।

উপার্জিত অর্থ উত্তলন করুন

অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা আছে যেমন, ডাচবাংলা, প্রাইম ব্যাংক ইত্যাদি এমন ব্যাংকে যদি আপনার অথবা আপনার পরিবারের কারও একাউন্ট থাকে তবে ঝামেলা বিহীন ভাবে এবং দ্রুত আপনার মার্কেটপ্লেসের একাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

এখন কথা হচ্ছে যে, আপনাকে সফল হওয়ার মেন্টরশিপ সে-ই দিতে পারবে, যে ঐ কাজে নিজে সফল। কিন্তু যে নিজেই কাজ করেনা বা করেনি, সে কি করে আপনাকে ট্রেইনিং দিতে পারবে?

আর যে দক্ষ, যে নিজে সফল, অনেক টাকা আয় করে, অনেক রেপুটেশন, সে কেন ট্রেনিং ব্যবসা করে ৫-১০ হাজার ইনকাম করতে আসবে? সে আরেকজনকে সফল করার মূল-মন্ত্র দিতে পারলে সে নিজে তো লক্ষ-লক্ষ আয় করার কথা। তার এত সময় কোথায়?

এসব ট্রেনিং সেন্টারের মালিক / ট্রেইনারদের ব্যাকগ্রাউন্ড খোঁজ নিলে দেখবেন, তারা নিজেরা অন্য ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করেছিল, নিজেরা ঐ কাজে দক্ষ হতে পারেনি, সফল হতে পারেনি। তো কি করবে? যা শিখেছে তা অন্যকে শিখিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করা যায়, আর ট্রেনিং করার জন্য অর্থলোভী মানুষের তো দেশে অভাব নেই।

ফ্রিল্যান্সিং কেন করব?

গ্র্যজুয়েশন শেষ করার পর আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হয় একটি চাকরি খোজা। অনেকেই আবার গ্র্যাজুয়েশনের আগেই চাকরি খোজা শুরু করে। প্রয়োজনের তাগিদে তখন পড়া লেখা শেষ করার আগেই চাকরিতে প্রবেশ করে। এবং নাম মাত্র মূল্যে নিজের জীবনের অমূল্য সময় গুলো বিক্রি করতে থাকে। পরিচিত অপরিচিত সবার কাছ থেকেই একটা প্রশ্ন কমন পাওয়া যায়। কি কর তুমি? যদি কোন ইনিস্টিটিউটে ভর্তি থাকি, বলা যায়, পড়ালেখা করি। যদিও পড়া লেখা করতে ইন্সটিটিউট এর প্রয়োজন হয় না। যদি কোথাও না পড়ি, তখন যদি বলি কিছু করি না। তখন প্রশ্ন কর্তার অভিব্যাক্তি অবশ্যই ভালো দেখায় না। আর উত্তর যদি হয় জব করি, ঐ কম্পানিতে, তখন অবশ্যই অভিব্যাক্তি দারুণ দেখায়। কিন্তু চাকরি করা থেকে অনেক ভালো কিছু রয়েছে করার মত। চাকরি বলতে যদি বুঝায় টাকা উপার্যন করা।তবে সৎ ভাবে টাকা উপার্জন করার অনেক গুলো সুন্দর পথ রয়েছে। চাকরি বলতে যতক্ষন কাজ করা, ততক্ষনই টাকা। কাজ বন্ধ তো টাকা ও বন্ধ। আর মাসের শেষে একটা এমাউন্ট। যা প্রথম সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। মাসের বাকি দিন গুলো আবার এদিক ঐদিক করে চলতে হয়। কেমন হয় যদি সারাক্ষনই টাকা উপার্জন হতে থাকে? কাজ করলেও, কাজ না করলেও? সারাক্ষন উপার্জন করা কি অসম্ভব কিছু? অবশ্যই না। অনেক গুলো সুন্দর পথ রয়েছে। ব্যবসা করা, ইনভেস্ট করা, ক্রিয়েটিভ কাজ করা যেমন ডিজাইনিং, ডেভেলপিং, লেখালেখি/ব্লগিং, ফটোগ্রাফি, সহ আরো অনেক। এগুলো থেকে রয়ালিটি ইনকাম আসতে থাকে। প্রথম প্রথম সময় দিতে হয়। এর পর আর তেমন সময় না দিলেও হয়। প্রথম প্রথম যে সময় দিতে হয়, তা একটি চাকরি খোজার সময় থেকেও কম। অনেক কম কষ্টের। চাকরি করলে নিজের বেতন বাড়বে না। বছরে দুই এক বার সামান্য কিছু বাড়ানো হয়। কিন্তু নিজের কাজ নিজে করলে ইচ্ছে করলেই বেতন বাড়িয়ে নেওয়া যায়। শুধু মাত্র পরিশ্রম একটু বাড়িয়ে দিলেই হয়। চাকরি খোজার জন্য অনেকেই অনেক ট্রেনিং নেয়, বা অনেক গুলো বই পড়ে। অথচ ঐ বই বা ট্রেনিং চাকরি করার জন্য না নিয়ে নিজের স্কিল বাড়ানোর জন্য নিলে দারুণ কিছু শেখা যেতো। যে গুলো কাজে লাগিয়ে আরো ভালো কিছু করা যায়। চাকরি করলে মানুষের অভিজ্ঞতা একটা বিষয়ের উপর থাকে। সব্ কিছুই দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। এক সময় নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হলে তখন নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারে না। এতে অনেকেরই হয়তো চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। সব সময়ই মনের মধ্যে একটা ভাব থাকে, সব কিছু ঠিক মত হচ্ছে তো? চাকরি চলে যাবে না তো। বস রাগ করবে না তো। ইত্যাদি। অথচ নিজের কোন কাজ হলে এসব চিন্তা করার কোন মানে হয় না। আচ্ছা, চাকরি কি মানুষকে ভিতু বানাতে সাহায্য করে না? মাস শেষে অল্প কিছু টাকা হাতে পায়। অনেকের হয়তো ঐ অল্প টাকাতেই হয়ে যায়। আবার কারো কারো অনেকের দ্বায়িত্ব নেওয়ার কারণে ঐ অল্পতে হয় না। যারা সৎ থাকতে পারে, তারা হয় বাড়তি কাজ করার চেষ্টা করে। আর না হয় অনেকেই নিজের সততাকে বিকিয়ে দেয়। নষ্ট করে মানুষের স্বাধীনতা। সবচেয়ে অমুল্য জিনিশ। এছাড়া চাকরি করলে নিজের ইচ্ছে মত কখনোই ছুটি কাটানো যায় না। অনেক সময় দরকারের সময়ও ছুটি পাওয়া যায় না। এসব ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা ভালো একটা সুবিধে করতে পারে। যখন দরকার তখন ছুটি কাটানো যায়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের ও সারাক্ষন কাজ করতে হয়। এক সপ্তাহ কাজ না করলে পরের সপ্তাহ খরচ করার মত টাকা থাকে না, যদি না সে আগে সেভ করে রাখে। আর সব থেকে ভালো পন্থা হচ্ছে একটা প্যাসিভ ইনকামের পথ তৈরি করা। যেখানে কাজ না করলেও একটা ইনকাম আসবে। তবে তার জন্য অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। চাকরি করার প্রতি অবহেলা নয়। কিন্তু অনেকেই চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক কিছু করে। চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে যায়। এক অফিশ থেকে আরেক অফিশে সিভি জমা দিতে দিতে নিজের অমূল্য সময় নষ্ট করে। এমনকি অসৎ পন্থাও অবল্বন করে। কিন্তু চাকরি করা থেকেও যে ভালো কিছু করা যায়, তা জানানোর জন্যই এ লেখা। অনেক গুলো পন্থার কথা লিখছি, চাকরি করা ছাড়াও করা যায়, সেগুলো নিয়ে লেখা যাক। প্রথমেই লিখছিলাম ব্যবসা করার কথা। ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা আমার নেই। ব্যবসা অবশ্যই চাকরি করা থেকে ভালো। নিজের ব্যবসা করার মত অভিজ্ঞতা না থাকলে যাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে, তাদের সাথে পার্টনার হয়ে ইনভেষ্ট করা যেতে পারে। যদি ইনভেস্ট করার মত টাকা না থাকে? আরো অনেক গুলো পথ রয়েছে। অফলাইনে করার মত হয়তো অনেক গুলো পথ থাকতে পারে। আমার জানা না থাকার কারণে লিখছি না। অনলাইনে যে সব কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো নিয়ে লিখছি। তার মধ্যে ডিজাইনিং অন্যতম।

আমার কি কি শিখা উচিত?

আগে যে কোন একটা বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এরপর? এরপর অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলতে একটু সময় দিতে হবে। ঘাটাঘাটি করতে হবে। যারা অনেক দিন থেকে কাজ করে, তাদের প্রোফাইল দেখতে হবে। তাদের প্রোফাইল দেকে তাদের প্রোফাইলের মত নিজের প্রোফাইল সাজাতে হবে। এবং ইংরেজীতে একটু দক্ষ হতে হবে। এমন না যে ফ্লুয়েন্টলি আপনাকে কথা বলতে হবে বা লিখতে হবে। অন্তত একটি জব পোস্ট পড়ে কি কি করতে বলছে, কি কি করতে হবে এবং ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার মত ইংরেজী জ্ঞান থাকতে হবে।

কাদের জন্য এই মুক্তপেশা?

– যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই।

– যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে।

– যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মত কমিউনিকেশন জানে।

– যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না।

– যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে।

– যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।

– যাদের শেখার প্রবণতা আছে।

যারা  পথে না আসলে ভাল করবেনঃ

•        যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।

•        যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।

•        যারা চাকরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।

•        যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১৫দিন – ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।

•        যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে লাখ টাকা’দেখে এই পেশার জন্য আগ্রহী হয়েছন।

•        যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ ভাবেন।

কিভাবে আসবেন  পথে?

•        আগে জানুন এ খাতে কোন কোন ফিল্ড আছে। (রেফারেন্সে লিংক)

•        তারপর ভেবে দেখুন আপনার এখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিল এবং ইন্টারেস্ট; সেটার সাথে কোন ফিল্ড মিলে যায়।

•        বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ঐ ফিল্ড গুলোর এখন পোস্ট করা জব গুলো ঘেঁটে দেখুন, বুঝার চেষ্টা করুন এ ধরণের কাজে কি কি স্কিল লাগে।

•        ঠিক করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, অনলাইনেই শেখা যায় ধৈর্য থাকলে। এদেশে প্রথম সারির ফ্রিল্যান্সাররা নিজে নিজেই শিখে সফল।

•        কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন এই সময়ে এসে, স্কিল্ড হওয়ার পর পরামর্শ নিন কিভাবে ফিল্ডে নামা যায়। প্রথমেই ‘ভাই, ইনকাম করার সহজ পথ বলেন’বলে কাউকে ইরিটেট করবেন না।

•        চেষ্টা করতে থাকেন, ফেইল করলে ভুল গুলো শুধরে আবার ট্রাই করেন। যে কাজে আপনাকে এক্সেপ্ট করেনি, সে কাজ নিজেই করুন, সেম্পল প্রজেক্ট হিসেবে প্র্যাক্টিসও হবে, পোর্টফোলিও হবে।

•        ধৈর্য ধরে নিজেকে আরও স্কিল্ড বানানোর জন্যে নতুন নতুন কিছু স্টাডি করুন।

কিছু ভুল ধারণাঃ

•        ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা যায়!

•        ৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ মাস কোর্স করলেই হাজার টাকা আয় করা যায়!

•        ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সফল হওয়া যায়!

•        পিটিসি, BET365, CAPTCHA এন্ট্রি, ফেইক লাইক এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!

•        ফ্রিল্যান্সিং করা খুব সহজ, দিনে ২ ঘন্টা সময় দিলেই হাজার টাকা!

•        ফ্রিল্যান্সিং মানে SEO.

•        ফ্রিল্যান্সিং আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য, বিজনেস, নন-আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছেলে মেয়েদের জন্য না।

•        ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে হবে।

কিছু অপ্রকাশিত তথ্যঃ

•        দেশে ৬ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং অথবা অনলাইন প্রফেশনাল।

•        নাম-সর্বস্ব ট্রেইনিং সেন্টারের সংখ্যা ১১০০০ +

•        ট্রেইনিং প্রাপ্ত নাম-সর্বস্ব স্কিল্ড ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি (এর অর্থ হল ১৪ লক্ষ বেকার, কারণ তারা সত্যিকার অর্থে স্কিল্ড না)।

•        নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই ছাড়া) ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্য কাজের সংখ্যা মোট মার্কেটের ৫৩%।

•        আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের সবার ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটির কাজ শিখতে হবে না, তাদের নিজেদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজই আছে মার্কেটে অনেক।

কিছু পরামর্শঃ

•        ট্রেইনিং সেন্টার থেকে দূরে থাকুন, নিজে শেখার চেষ্টা করুন।

•        ট্রেইনিং সেন্টারে যদি যেতেই হয়, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, ট্রেক রেকর্ড চেক করুন। প্রয়োজনে এই খাতে সফল কারও পরামর্শ নিন।

•        অল্প দিনে অনেক টাকা আয় করার কথা যারা বলে তাদের থেকে দূরে থাকুন।

•        পুরোদমে ফ্রিল্যান্সিং করবেন, তবে ৩ বছরের বেশি না, এর পর উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করবেন।

আজ এখানেই ইতি টানছি। আবারো হয়তো দেখা হবে নতুন কোন টপিক নিয়ে। সিদ্ধান্ত নিন, নিজেকে আগে তৈরী করুন। হাজার হাজার কাজ অনলাইনে ঘুরে বেড়ায় তাই কাজ নিয়ে ভাবতে হবেনা। আর বাইরের কাজ না করতে চাইলে। এসইও শিখে অন্তত নিজের কাজ নিজে করুন। সকলকে কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।

Collected

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *