পরীক্ষার ১০ মাসেও ফল পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা

পরীক্ষার ১০ মাসেও ফল পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা। যার মধ্যে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, গণিত, পদার্থ, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফিন্যান্স বিভাগও রয়েছে। যদিও আড়াই-তিন মাসেই ফল পাওয়ার কথা। ফল না প্রকাশে ক্ষতির মুখে এসব শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সমন্বয়ের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন এবং অধিভুক্ত কলেজের তিনজন শিক্ষক থাকেন। তারা একটি সভার আয়োজন করে থাকেন। করোনার কারণে সেই সভা না হওয়ায় সমন্বয়হীনতার কারণে ফল প্রকাশ পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আড়াই মাস আগে কয়েকটি বিভাগের ফল প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই আট বিভাগের ফল এখানো প্রকাশ পায়নি। এছাড়া ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলে বৈষম্য হওয়ায় সড়কে আন্দোলনে নামেন এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পরীক্ষার অনুমতি দিলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজ এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথম বর্ষে তার ‘রসায়ন’ ইমপ্রুভমেন্ট থাকায় এখনো তিনি অনার্সের সার্টিফিকেট পাননি। আরেক শিক্ষার্থী জানান, সেশন জটের কারণে চার বছরের জায়গায় ৭-৮ বছর লেগে যায়। ফলে পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে হয়। রাসেল রানা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি শেষ বর্ষের পরীক্ষায় পাস করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে একটি পরীক্ষায় ফেল থাকায় সিজিপিএ আসেনি। এই পরীক্ষা যে কবে হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। যারা দু’এক বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছেন, তারা অটো পাসের দাবি জানিয়েছেন।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ উল্লেখ করে অধিভুক্ত কলেজের সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতা আবু বকর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বর্ষের কোনো শিক্ষার্থীর সিজিপিএ-২ এর নিচে এবং দ্বিতীয় বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষের কোনো শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ২.৫ এর নিচে থাকলে তাকে নন প্রমোটেড করা হয়। তাই আমাদের ক্লাসের সুযোগ দিতে হবে। ইনকোর্সে নম্বর খুব কম দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন আবু বকর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ফল প্রকাশ করাই থাকে পরীক্ষা কমিটির লক্ষ্য, তবে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই একটু সময় লাগে। তিনি জানতেন না এখনো তারা ফল পায়নি জানিয়ে বলেন, আমি পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করবো। সাত কলেজের সাত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে কমিটি আছে। তাদের কলেজগুলো তাদের তত্ত্বাবধানে চলে। তাদের কোনো দাবি বা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘাটতি থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই তা পূরণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *