বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা (শিক্ষা, বয়স ও স্বাস্থ্য)- পিএসসি

0

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা জানুন। নাগরিকত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারিরিক যোগ্যতা, বয়সসীমা সংক্রান্ত যোগ্যতা। বিসিএস আবেদন করার যোগ্যতা। বিসিএসের সাধারণ যোগ্যতা। BCS exam qualification

এমন বেশ কিছু মানুষ আছে, যারা বিসিএসে পাশ করেও ক্যাডার হতে পারেনি। শুনে অবাক লাগছে? এখানে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। সিভিল সার্ভিস বাংলাদেশের মধ্যে সব থেকে মর্যাদাপূর্ণ চাকরিক্ষেত্র। আর এই চাকরিতে আসার আগে প্রার্থীগন এই চাকরির যোগ্য হবে কিনা সেটা খুব ভালোভাবে বিবেচনায় রাখা হয়ে থাকে।

তবে যাই হোক, যোগ্যতার মানদন্ডে আহামরি শর্ত দেয়া নেই। যাদের চোখে সামান্য সমস্যা তাদের একটু ভয় কাজ করে এই বিসিএস নিয়ে। তারা ভাবে আমি তো চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করি, তবে আমি কি এই বিসিএস দিতে পারব? আবার যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ভালো সিজিপিএ নাই তারাও হতাশাগ্রস্ত থাকে। মনে করে, এত কম সিজি নিয়ে কি আমি ক্যাডার হতে পারব? এই ধরণের অসংখ্য দুশ্চিন্তা ও ভয় থাকে আমাদের সবারই। আসুন আজকে বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা নিয়ে একটু আলোচনা করি।

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা কি কি আসুন জানি 

আমরা সকলে নেগেটিভ বিষয় নিয়ে ভাবতে একটু বেশিই ভালোবাসি। তবে বিসিএস পরীক্ষার সাধারণ যোগ্যতা অনেকটাই শিথীল। আবেদন করতে পারবেন সকলেই যদি খুব বড় ধরনের কোন সমস্যা আমাদের না থাকে।

বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা) বিস্তারিত দেখুন

প্রকৃতপক্ষে বিসিএসে চার (৪) ধরণের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় সকল প্রার্থীদের জন্য। সেগুলো হলোঃ নাগরিকত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারিরিক যোগ্যতা, বয়সসীমা এগুলোই হল বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে হলে আপনাকে এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত পাশ করতে হবে। স্নাতক বলতে চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স। এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব পরীক্ষার যেকোন দুইটিতে দ্বিতীয় শ্রেণী বা সমমান এবং ১টি তৃতীয় শ্রেণী বা সমমান এর নিচে থাকলে সেই প্রার্থী বা আবেদনকারী বিসিএস দিতে পারবে না।

যদি কোন প্রার্থী এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ডিগ্রী বা তিন বছর মেয়াদী সমমান কোর্সে পড়াশুনা করে থাকেন, তবে ডিগ্রী পাস করার পর স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পাশ করতে হবে। এরপরে তিনি বিসিএসে আবেদন করতে পারবে। অন্যথায় আবেদন করার সুযোগ পাবে না।

বর্তমানে জিপিএ সিস্টেম চালু থাকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী নির্ধারণ করতে সমস্যায় ভোগেন অনেক প্রার্থীরা। তাদের জন্য নিচে সহজ একটা হিসাব দিয়ে দিচ্ছি দেখে নিন।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী নির্ধারণ বা বের করার পদ্ধতিঃ

এসএসসি এবং এইচএসসি এর ক্ষেত্রেঃ প্রথম শ্রেণী = ৩ বা তদুর্ধ্ব, দ্বিতীয় শ্রেণী = ২ থেকে ৩ এর কম,  তৃতীয় শ্রেণী = ১ থেকে ২ এর কম।

অনার্সের ক্ষেত্রে জিপিএ থেকে শ্রেণীঃ প্রথম শ্রেণী = ৩ বা তদুর্ধ্ব, দ্বিতীয় শ্রেণী = ২.২৫ থেকে ৩ এর কম, তৃতীয় শেণী = ১.৬৫ থেকে ২.২৫ এর কম।

আরও জানুন- ৪৪ তম বিসিএস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ; মোট পদ ১ হাজার ৭১০

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শারীরিক যোগ্যতা

বিসিএসে শারীরিক যোগ্যতা শুরুতেই যাচাই করা হয় না। সবার আগে প্রিলিমিনারি, রিটেন ও ভাইভা পরীক্ষা শেষ করতে হয়। এই পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই মূলত শারীরিক যোগ্যতা যাচাই বাছাই করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিশেষ মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়ে থাকে। মেডিকেল পরীক্ষাতে পাশ না করলে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়না।

শারীরিক যোগ্যতার মধ্যে অনেক দিক আছে, তার মধ্যে ওজন, বক্ষ, চোখ, উচ্চতা, মূত্র পরীক্ষা অন্যতম। লিখিত, ভাইভা সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও যদি মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ না হয় তাহলে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পাবে না। তাই আগে থেকে নিজের এগুলো জেনে বুঝে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুতি সবার নেওয়া উচিত।

মেডিকেল টেস্টে সাধারণত যেগুলো দেখা হয়ঃ
  • বক্ষ, ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ।
  • মূত্র পরীক্ষা করা হয়।
  • দৃষ্টিশক্তি যাচাই ও পরীক্ষা করা হয়।
বক্ষ, ওজন ও উচ্চতা পরিমাপঃ 

পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সাথে সর্বনিম্ন ওজন থাকতে হবে ৪৯.৯৯ কেজি। তবে পুলিশ ও আনসার ক্যাডারের জন্য সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি ও ওজন ৫৪.৫৪ কেজি থাকতে হবে।

মহিলা প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি থাকা বাধ্যতামূলক মহিলা প্রার্থীর সর্বনিম্ন ওজন হতে হবে ৪৩.৫৪ কেজি। তবে পুলিশ ও আনসার ক্যাডারের জন্য সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট এবং সর্বনিম্ন ওজন ৪৫.৪৫ কেজি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ওজন কিছুটা কম থাকলেও তা বাড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে।

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা
বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা
পরীক্ষাগারে মূত্র পরীক্ষাঃ 

মূত্র পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষাগারে যাবতীয় রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। বিসিএসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করে থাকেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যদি কোন প্রার্থী অযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হয় তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তা প্রার্থীকে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কে জানানো হয়ে থাকে।

আরও জানুন- ৪৩তম বিসিএসে মানতে হবে আটটি নির্দেশনা
দৃষ্টিশক্তি যাচাই ও পরীক্ষাঃ 

সহজ ভাষায় চোখে কোন সমস্যা থাকলে ও চশমা ব্যবহার করার পরে যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে বিসিএস ক্যাডার হতে কোন ধরণের সমস্যা নেই। কেউ যদি রঙ চিহ্নিত করতে না পারে তবেও উক্ত প্রার্থী বিসিএসে যোগ্য হবে। সেক্ষেত্রে এই তথ্য প্রার্থীর রিপোর্টে অবশ্যই লেখা থাকতে হবে।

নিম্নলিখিত মানদন্ড অনুযায়ী দৃষ্টিশক্তির যাচাই করে বিবেচনা করা হয়

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা
বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা। বিসিএসের সাধারণ যোগ্যতা। BCS exam qualification

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমা

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা বয়স যাচাই করার জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো বয়সে আপনি চাইলেই পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এর জন্য আপনার যে সকল বিষয়গুলো জানা জরুরি তা নিচে দেওয়া হলঃ

সাধারণ প্রার্থীদের জন্যঃ সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার দেওয়া মাসের প্রথম তারিখে বিসিএস এ আবেদনকারীর বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। অর্থাৎ পিএসসি যে মাসে এই পরীক্ষার সার্কুলার জারি করবেন সেই মাসের ১ তারিখে ২১-৩০ বছরের মধ্যে বয়স থাকলেই বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ২১ বছরের কম থাকলে অথবা ৩০ বছরের বেশি হয়ে গেলে কেউ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

বিশেষ প্রার্থীদের জন্যঃ এখানে বিশেষ বলতে মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়েদের, প্রতিবন্ধীদের বা স্বাস্থ্য ক্যাডারের আবেদনকারীদের বোঝানো হয়েছে। তাদের বয়সসীমা সাধারণদের চেয়ে ২ বছর বেশি রাখা হয়েছে। এরা বয়স ৩২ পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

বিশেষ (উপজাতি) প্রার্থীদের জন্যঃ বিশেষদের মধ্যে উপজাতিও বিদ্যমান আছে। সেগুলো হল সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্যাডারের উপজাতি। এদের বয়সসীমা ২ বছর বেশি দেওয়া হয়। অর্থাৎ তারা ৩২ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

বিসিএস প্রার্থীর নাগরিকত্ব

জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কোন ব্যক্তি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সরকারের অনুমতি ব্যতিত যদি কোন বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করা হয় কিংবা বিয়ে করার প্রতিজ্ঞা করে থাকলে সে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

শেষ কথা  

একজন প্রার্থীকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্ব থেকেই বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা ও বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি সহ সকল তথ্যাবলী ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিৎ। বিসিএস বর্তমানে বাংলাদেশের সব থেকে বড় জব সেক্টর বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সকলে আসল মেধা যাচাই করার সুযোগ পেয়ে থাকে। কিন্তু কম্পিটিশন বেশি আর সিট সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকার কারণে এখানে ঠাঁই পাওয়া অনেক কঠিন। বিসিএসে আবেদন করার যোগ্যতা খুব বেশি একটা জটিল না। বলতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা থাকলেই যেকেউ বিসিএস আবেদন করতে পারেন। তবে আসল মেধা যাচাই করার জন্য এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তবেই না বোঝা যাবে প্রার্থী বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যোগ্য কিনা।

নিয়মিত বিসিএস প্রস্তুতি নিতে যোগ দিতে পারেন আমাদের বিসিএস ও ব্যাংক জব প্রস্তুতি || BCS & Bank Job Preparation এই ফেসবুক গ্রুপে।

আশা করি বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা সম্পর্কিত সকল কিছু জেনে গেছেন। আর‍ও কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন এবং আমাদের এডু হেল্পস বিডির সাথে থাকবেন।

পোষ্টটি লিখেছেন

নাঈমুর রহমান দুর্জয়
নাঈমুর রহমান দুর্জয়
নাঈমুর রহমান দুর্জয়, শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট "এডু হেল্পস বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ এর সরকারি বাঙলা কলেজে এমবিএ করতেছেন।