বদলে যাচ্ছে এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি!

0

এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। দশম শ্রেণির জন্য আলাদা বই দেয়া হবে, তার ওপরে ভিত্তি করেই শ্রেণির পাঠদান হবে, এবং বইয়ের ওপরেই হবে এসএসসি পরীক্ষা। এইচএসসি পরীক্ষা বছরে দুইবার নেয়া হবে। প্রথমে একাদশ শ্রেণিতে পড়া বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে বছর শেষে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই নম্বর নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড সংরক্ষণ করবে বলে জানা যাই। তারপরে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া বিষয়ের ওপর আবারও পরীক্ষা দেবে সকল শিক্ষার্থীরা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল যোগ করার মাধ্যমে এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হবে।

বদলে যাচ্ছে এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি!

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোন ধরণের পরীক্ষা নেই। চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০ শতাংশ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক ভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে। এছাড়া অষ্টম-নবমে ৬০, দশমে ৫০ শতাংশ এবং এইচএসসিতে ৩০ শতাংশ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ২০১২ সালের পর ফের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সংস্কার আসছে। এর আগে ১৯৯৫ সালেও শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের আলোকে এখন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম তৈরি করা হচ্ছে। আগামী বছর শুধু চারটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে বলে জানা যায়। শ্রেণি চারটি হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম। এসব শ্রেণির শিক্ষাক্রম লেখার কাজ চলমান, তা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। এরপরে পাঠ্যবই যথা শিগ্রয় লেখা শুরু হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে দশম শ্রেণি এবং ২০২৬ সালের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রমে বই প্রবর্তন শেষ করা হবে। এর আগে ২০২৩ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যবই অনুমোদন করা হবে। আগামী বছর থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দুই বছর মেয়াদি করা হবে।

আরও পড়ুনঃ সেশনজটের কারণে সাত কলেজ ছেড়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, বর্তমানে ২০১২ সালে প্রবর্তিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া চলমান রয়েছে। সারা বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছর পরপর শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হয়ে থাকে। যুগের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় এটা স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। সেই হিসেবে আরও আগে এ পরিমার্জন করার প্রয়োজন ছিল। বর্তমান সময়ে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীই একই পাঠ্যবই পড়তে হবে। এমনকি এ দুই শ্রেণিতে তারা প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষারও সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুনঃ মেডিকেলে চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত মুন্নীর

চলতি বছর দেশের বিভিন্ন স্কুলে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলমান রয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে  সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হবে। তবে বর্তমান শিক্ষাক্রমে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে কিছু বলা হয় নাই। সরকারের নির্বাহী আদেশে পরীক্ষা দুটি নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমেও এই বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

 

পোষ্টটি লিখেছেন

এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট। যার মূলমন্ত্র হাতের মুঠোয় শিক্ষামূলক সকল খবর। এডু হেল্পস বিডি এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সুন্দর কমিউনিটি তৈরি করা। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা ও লেখাপড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।