অনার্স পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল ও সময় বিভাজন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

0

পরীক্ষার খাতায় মূলত লেখার উপরেই নির্ভর করেই মান যাচাই করা হয়। পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ বা চিন্তা সকল শিক্ষার্থীদের থাকাটা একদম স্বাভাবিক। এই চিন্তা বা উদ্বেগই হল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো করার মূল চালিকাশক্তি। পরীক্ষা নিয়ে যার মনে কোনো ভাবনাই নেই তার পরীক্ষায় প্রস্তুতিতে যথেষ্ট পরিমান ঘাটতি থেকে যায়। অনার্স পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করছি। 

অনেক মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উত্তর বা উপস্থাপনার অভাবে অনেক কম নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা জানি সাফল্য অর্জনের মূলমন্ত্র আত্মবিশ্বাস ও ভালো গাইডলাইন। যেকোনো পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন বা ভালো করার জন্য কিছু কৌশল অনুসরণ করতে হয়। নিচে পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল,সময় বিভাজন ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আরও পড়ুনঃ ‘৪৩তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২০’ প্রিলিমিনারি টেস্টের সময়সূচী ও আসন বিন্যাস

অনার্স পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল

হাতের লেখা তোমার অনেক ভালো হতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে হাতের লেখা পরিষ্কার থাকতে হবে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী, অর্থাৎ প্রথমে দর্শনে ভালো হতে হবে এবং পরে তোমার গুণের বিচার করা হবে। তাই পরীক্ষার খাতায় হাতের লেখা ভালো করলে পরীক্ষকের একটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়ে যায়। সর্বোপরি, সুন্দর ও স্পষ্ট হাতের লেখা পরীক্ষার্থীর সম্পর্কে একটা ইতিবাচক ধারণা তৈরী করে দেয়। এর প্রভাব সম্পূর্ণ খাতার উপরেই পড়ে। কাটা-ছেঁড়া কম করার চেষ্টা করতে হবে, কাটা গেলে একটান দিয়ে কাটতে হবে, ঘষামাজা করা যাবে না।

খাতায় সুন্দরভাবে মার্জিন টানাঃ পরীক্ষার খাতা হাতে পাওয়ার পর খাতায় সুন্দর করে মার্জিন দিতে  হবে। কলমের পরিবর্তে পেন্সিল দিয়ে মার্জিন টানলে সব থেকে ভাল হয় এতে খাতায় কোন ভাজ না দিয়ে মার্জিন চিহ্নিত করা যায়।

বিভিন্ন রঙের কলম বা কালি পরিহারঃ অনেকেই আছে পরীক্ষার খাতায় বিভিন্ন রঙের কলম বা কালি ব্যবহার করে থাকেন। এর ফলে সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি খাতার উপস্থাপনায় সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। মার্জিন টানার ক্ষেত্রে একটি ভালো মানের পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করার জন্য সবুজ, নীল বা হলুদ যে কোনো একটি অথবা লেখার কলম বা মার্জিনের পেন্সিলটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিভিন্ন রঙের অতিরঞ্জিত কালি ব্যবহার করা হলে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং তা নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ অংশ ভালোভাবে পড়াঃ প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অংশ পড়া উচিৎ। ধৈর্য সহকারে প্রশ্নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়া। উক্ত প্রশ্নগুলো অনেক কঠিন মনে হলেও এতে কোনভাবে হতাশ হওয়া যাবে না। প্রশ্নটি প্রথমে কঠিন মনে হলেও তা একটু পড়েই সহজ মনে হবে। অনেক শিক্ষার্থীরই অভ্যাস আছে সম্পূর্ণ প্রশ্ন না পড়ে উত্তর করা শুরু করে দেয়। সময় একটু বেশি লাগলেও ধৈর্য সহকারে কাজ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে যে রকম চেয়েছে সেটায় বুঝিয়ে লেখার চেষ্টা করতে হবে। উত্তর করার সময় প্রশ্নের সাথে প্রসাঙ্গিক উত্তর করার চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। একই কথা বারবার লিখে উত্তর অপ্রাসঙ্গিক করলে নাম্বার তেমন আসে না! তাই খেয়াল রাখতে হবে প্রশ্নে কী চেয়েছে।

প্রশ্ন বাছাই করাঃ সবচেয়ে ভাল জানেন এমন প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আবার ভালভাবে জানা দুইটি প্রশ্ন থেকে একটি বাছাই করতে হলে তা ভেবে দেখতে হবে যে কোন প্রশ্নের উত্তরে বেশি নম্বর আশা করা যেতে পারে। যেটা ভালো পারবেন, সেটার উত্তর আগে করতে হবে। জটিল ও কঠিন কাজ আগে করে কোন লাভ নেই। যে উত্তর ভালোভাবে লিখতে পারবেন না সেটা নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। সময় কম থাকলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে উত্তর করা যাবে এমন প্রশ্ন বাছাই করা উচিৎ। তবে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরীক্ষায় লেখা শুরু করা বেশি ভাল।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি

খাতার সাজ-সজ্জা ঠিক রাখাঃ খাতা সাধারনের মধ্যে সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। সকল উত্তর প্যারা করে লেখা উচিৎ। সম্পূর্ণ খাতায় একই রকম লেখার মান বজায় যেন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমনঃ শিরোনামের নিচের দাগ, প্রশ্নের নম্বরের লেখার রঙ, প্যারার ডান পাশে খালি অংশের পরিমান ইত্যাদি সম্পূর্ণ খাতায় একই ধারা বজায় রেখে লিখতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের নিচে একটি/দুটি দাগ টেনে দেওয়া যেতে পারে এতে পরীক্ষক যাতে বুঝতে পারে উত্তর দেয়া এখানেই শেষ। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা সঠিক উত্তর না জেনে শুধু খাতা ভরিয়ে লিখতে থাকে। এরা মনে করে শিক্ষকরা না পড়ে না বুঝেই নাম্বার দেন। তাদের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। শিক্ষকরা নাম্বার প্রদানের ক্ষেত্রে খুব সচেতন থাকেন।

চিত্রের ব্যাপারে সচেতন হতে হবেঃ যেকোনো চিত্র অবশ্যই পেন্সিল দিয়ে অংকন করতে হবে। ঘষামাজা করে বা বারবার মুছে আবার চিত্র আঁকলে চিত্রটির সৌন্দর্য নস্ট হবে তাই এটা পরিহার করতে হবে। কোনভাবেই বিষয়বস্তুর সাথে অসামঞ্জস্য কোন চিত্র দেয়া যাবে না। চিত্রে প্রয়োজনীয় অংশ চিহ্নিত করতে হবে, চিত্রের নম্বর ও চিত্রের সঠিক বিষয়টি চিত্রের নিচে অবশ্যই লিখে দিতে হবে।

লেখার গতি বজায় রাখাঃ উত্তর লেখায় একই রকম গতি বজায় রাখতে হবে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় শুরুর দিকে খুব ধীরে ধীরে উত্তর লিখে আর শেষের দিকে এসে রকেট গতিতে ছুটে চলার চেস্টা করায় হাতের লেখাগুলো অসুন্দর হয়ে যায়।

কোন প্রশ্ন ছেড়ে না আসাঃ পরীক্ষায় খালি খাতা জমা দিয়ে আসার চাইতে কিছু লিখে আসা অনেক ভালো। কোন কিছু  হারাবার তো নেই, তাই না? খালি খাতা দিলে নিশ্চিত শূন্য পাবেন, এর চাইতে কিছু লিখে আসলে কিছু নম্বর অবশ্যই পাবেন।

অনার্স পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল

♦ অনার্স পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল ♦ পরীক্ষায় খাতায় উত্তর লেখার কৌশল ♦

পরীক্ষায় সময় বন্টন বা সময় বিভাজন

প্রশ্নগুলোর মান ও ধরনের উপর ভিত্তি করে কত সময়ের মধ্যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া শেষ হবে তার একটি হিসেব তোমাকে মনে রাখতে হবে। মাঝে মাঝে সময়ের সাথে তোমার লেখার গতির হিসাব করে নিতে হবে। একটি প্রশ্নের বিশাল বিবরণ লিখতে গিয়ে অন্য আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় না পাওয়ার চেয়ে  দূঃখের আর কি আছে !

আরও পড়ুনঃ Answer for রেজিষ্ট্রেশন ফরমের বিষয় কোড

পরীক্ষার হলে সময় মেপে কাজ করা সবচেয়ে মূখ্য বিবেচ্চ বিষয়। অবশ্যই তোমাকে সময়ের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় লেখার অনেক কিছুই এখনো বাকি আছে কিন্তু হাতে কোন সময় নেই। সেজন্য পুরো প্রশ্নকে আগে থেকেই সময় অনুসারে ভাগ করে নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে পরীক্ষার হলে ডিজিটাল ঘড়ি ব্যবহার করা, যাতে নিখুঁতভাবে তোমার সময়ের হিসাব থাকে। পরীক্ষার সময় কোনটা ঠিক হলো বা কোনটা ভুল হলো তার হিসাব করা একেবারেই বাদ দিতে হবে।

পরীক্ষায় ভালো করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

আত্মবিশ্বাস রাখাঃ পরীক্ষার হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল আত্মবিশ্বাস রাখা। পরীক্ষার আগে তুমি যা  পড়েছো তা সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করতে হবে এমন চিন্তায় মাথায় রাখতে হবে। আর কিছু নয়! যা শিখে গেছো তা যদি অতিরিক্ত টেনশন করার কারনে ভুলে গিয়ে খাতায় লিখে দিয়ে আসতে না পারো তাহলে কোন লাভই নেই। মনে রাখতে হবে পড়াশোনা আর পরীক্ষা শব্দ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র দেখে কোনভাবেই ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে।

পরীক্ষার আগের রাতের পড়াঃ পরীক্ষার আগের দিন রাতে খুব বেশি রাত জেগে পড়ালেখা করা একেবারেই উচিৎ না। নতুন নতুন কোন টপিক শুরু না করে পূবের্র পড়াগুলো বার বার বুঝে অধ্যয়ন করা উচিৎ এবং রিভাইজ করতে হবে । অনেক রাত জেগে পড়ার কারনে পরীক্ষার সময়ে তোমার ক্লান্তি অনুভব হতে পারে এবং স্বরণ শক্তি কমে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে রাখা ও মনে করে তা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াঃ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কলম, পেন্সিল, সাইন পেন, স্ক্যাল, ক্যালকুলেটর, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড সহ অনুমোদিত অন্যান্য সরঞ্জাম মনে করে অবশ্যই কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত কলম সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে একটি কলমে সমস্যা হলে অন্যটি দিয়ে লেখা যাবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে, দেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়াঃ পরীক্ষার দিন ২০-২৫ মিনিট আগেই কেন্দ্রে আসা উচিৎ। পরীক্ষা কেন্দ্র অনেক দূরে হলে আরও কিছু বাড়তি সময় নিয়ে আসতে হবে কারণ রাস্তায় কোন সমস্যা (জানজট ইত্যাদি) হলে যাতে কোন ধরনের সমস্যা না হয়।

পরিশেষে, পড়াশোনার পরিমাণের উপর নির্ভর করবে আপনার পরবর্তী কর্ম জীবনের সফলতা। আর এই পরীক্ষার হলে একটু সচেতন থাকলে আর যা কিছু পড়ে যাবেন তা ভালভাবে পরীক্ষার খাতায় লিখে আসতে পারলে আশানুরূপ অনেক ভালো ফলাফল পাবে বলে আশা রাখছি। পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই নিজেই নিযেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

নকল ও অসাদুপায় অবলম্বন থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। সবার জন্য শুভ কামনা ♥

পোষ্টটি লিখেছেন

নাঈমুর রহমান দুর্জয়
নাঈমুর রহমান দুর্জয়
নাঈমুর রহমান দুর্জয়, শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট "এডু হেল্পস বিডি"র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ এর সরকারি বাঙলা কলেজে এমবিএ করতেছেন।