বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি: BCS শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত

0

বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি। বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ। BCS শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত। Preliminary, Written and Viva Exam A To Z  বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা। 

বিসিএস পরীক্ষা মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হয় সেটা হচ্ছে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা। যারা বিসিএস এ অংশগ্রহণ করবে তাদের অনেক ধরনের প্রশ্ন থাকে। তেমনি বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই জানতে চাই। এডু হেল্পস বিডির আজকের আলোচনায় এই বিষয়টা নিয়েই থাকছে বিশেষ আয়োজন। আসুন বিসিএস এর প্রতিটি ধাপ অর্থাৎ বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করিঃ

বিসিএস পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। তার প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা এবং তৃতীয় ধাপে ভাই পরীক্ষা।

বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা) বিস্তারিত দেখুন

বিসিএসের প্রথম ধাপঃ বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হওয়ার পর সবাইকে প্রথমে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। আর এই ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারিতে ২০০ টি এমসিকিউ কোশ্চেন দেওয়া হয়। যার জন্য নম্বর বরাদ্দ থাকে ২০০ এবং সময় থাকেন দুই ঘণ্টা। তার মানে আপনাকে ১২০ মিনিটে ২০০ টি কোশ্চেনের অ্যানসার করতে হবে। এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ৫০ পার্সেন্ট নেগেটিভ মার্ক থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.০৫ নাম্বার কাটা যাবে।

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট বিষয় থাকে দশটি। আর এই দশ বিষয়ের উপর ২০০ নাম্বার থাকে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন দেখুন

বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি

বিসিএসের দ্বিতীয় ধাপঃ বিসিএস লিখিত পরীক্ষা

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরে যে দ্বিতীয় ধাপটি অনুষ্ঠিত হয় সেটা হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা হয় মোট ৯০০ নাম্বারের। এতে গড় পাস নাম্বার থাকে ৪৫০।

বিসিএস সিলেবাস অনুসারে লিখিত তে সাধারণ ও প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের পরীক্ষা হয়ে থাকে। আর তাদের সিলেবাস ও ভিন্ন হয়। লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বর থাকে ৯০০। তবে প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডার যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। মানে কেউ ডাক্তার হতে চাইলে ডাক্তারি অতিরিক্ত ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।

প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারে উপরিউক্ত বিষয়ের উপর ৯০০ মার্কের পরীক্ষা দিতে হবে।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন দেখুন

বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি

বিসিএসে লিখিততে প্রতিটি ২০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় দেয়া হয়ে থাকে ৪ ঘণ্টা। প্রতিটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় দেয়া হয় ৩ ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষায় গড় পাস মার্ক ধরা হয় ৫০%। অর্থাৎ ৯০০ নম্বরের মধ্যে সব বিষয় মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর পেলে তবেই আপনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। অন্যথায় নির্বাচিত হবেন না।

তবে কোন প্রার্থী যদি চাই একই সাথে সাধারণ ক্যাডার এবং প্রফেশনাল ক্যাডার দুটোতেই আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে ঐ প্রার্থীকে  পরীক্ষার সময় সাধারণ ক্যাডারের বিসিএস সিলেবাস অনুযায়ী ৯০০ নম্বরের সাথে প্রফেশনাল ক্যাডারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ২০০ নম্বরের অতিরিক্ত পরীক্ষা দিতে হবে। অর্থাৎ তখন প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষায় মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। উভয় ক্যাডারে পাশ করতে হলে ১১০০ নম্বরের ৫০% মানে ৫৫০ নম্বর থাকতে হবে। অন্যথায় নির্বাচিত হবেন না।

বিসিএসের তৃতীয় ধাপঃ বিসিএস ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা

তৃতীয় ধাপ বা শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত হয় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। ২০০ নাম্বার থাকে মৌখিক পরীক্ষায়। বিসিএস ভাইভাতে নির্দিষ্ট কোন বিসিএস সিলেবাস নাই। ভাইভা বোর্ডে সাধারণত নিজের সম্পর্কে, নিজের জেলা সম্পর্কে, অনার্সে পঠিত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।

তাছাড়া সমসাময়িক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও প্রশ্ন হয়। প্রার্থীর প্রদত্ত ক্যাডার পছন্দক্রম থেকে বিভিন্ন ক্যাডার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপরেও প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। ভাইভাতে সর্বমোট ২০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। এখানে পাশ মার্ক ৫০%, অর্থাৎ ১০০ নম্বর পেলে আপনি ভাইভাতে পাশ করবেন। আর এই লিখিত ও ভাইভায় প্রাপ্ত মোট নম্বর অনুযায়ী প্রার্থীদের বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশ করে থাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

বিসিএসের সমস্ত সিলেবাস ও মানবন্টন পিডিএফ ডাউনলোড করুন

বিসিএস এর সফলতার জন্য বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি এবং পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস দেখে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। আর এই পরীক্ষায় নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে অবশ্যই প্রিলিমিনারি দরজা পার করতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বিসিএস পরীক্ষায় কোন প্রভাব না ফেললেও বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অবশ্যই প্রিলিমিনারি পরীক্ষাটি দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। প্রিলিমিনারি বিসিএসের মূল পরীক্ষায় কোন প্রভাব ফেলে না। প্রিলিমিনারিতে কোন মতে টিকলেই হয়। কারণ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর লিখিত বা ভাইভাতে কোন কাজেই আসে না। প্রিলিমিনারির মাধ্যমে পরীক্ষার্থী সংখ্যা শুধু একটু কমানো হয়।

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য শুধু লিখিত ও ভাইবায় যে নাম্বারটা পাবে সেটাই গণনা করা হয়। তবে প্রিলিমিনারি পার না করতে পারলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়া যায় না।

নোটঃ বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি, বিসিএস সিলেবাস এবং মানবন্টন সহ এই লেখার সকল তথ্যাদি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ওয়েবসাইট, বিগত সকল বিসিএস পরীক্ষা পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।

পোষ্টটি লিখেছেন

মোহন ইসলাম বাঁধন
মোহন ইসলাম বাঁধন
শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট " এডু হেপ্লস বিডি"র সহ প্রতিষ্ঠাতা। নিয়মিত শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করে থাকেন। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এমবিএ করতেছেন।