জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও চারটি সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষা তে সফল

2

রাফিউজ্জামান, সহকারী ব্যবস্থাপক, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছি। চাকরির ভাইভা পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হয়েছি। সবগুলো চাকরির ভাইভা হয়েছিল প্রায় কাছাকাছি সময়ে, ২০১১ সালের মে, জুন, জুলাইয়ে এর মধ্যে।

আরও পড়ুনঃ স্নাতক/অনার্স পাশ ছাড়া নারীরা প্রাথমিক শিক্ষক হতে পারবেন না

আমার জীবনের প্রথম চাকরির ভাইভা পরীক্ষা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এর একটি পদে। অনার্স পাস করে এই নিয়োগ পরীক্ষায় আমি অংশ নিয়েছিলাম। ভাইভা বোর্ডে আমাকে করা প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ‘আপনার নাম কী? পিতার নাম কী?  উত্তর দেওয়ার সাথে সাথেই প্রশ্ন করা হয়, আপনার পিতা তো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আপনার পিতা কোন সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন? তখন আমি বলি, ‘১১ নম্বর সেক্টরে আপনি আপনার এলাকার একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন। আমি বললাম, বেগম মতিয়া চৌধুরী। এর পরই আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, মতিয়া চৌধুরী কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন? আমি বলি তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী (সাল ২০১১)। এরপর প্রশ্নকর্তা বললেন, আপনার দাখিলকৃত কাগজপত্র অনুযায়ী আপনি তো সদ্য অনার্স পাস করেছেন। তো আপনি এই চাকরি পেলে করবেন? আমি বললাম, জি অবশ্যই আমি চাকরি করব।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি

দ্বিতীয় বার চাকরির ভাইভা পরীক্ষা

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে (বর্তমানে এ প্রকল্পের নাম ‘আমার বাড়ি আমার খামার) সেটা ছিল উপজেলা সমন্বয়কারী পদ। এই ভাইভায় আমাকে কয়েকটি কমন প্রশ্ন করার পর ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্পর্কে জানতে চাই। তারপর জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি এই চাকরির কার্যপরিধি সম্পর্কে কতটুকু জানেন? তখন আমি এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রাণালী সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে থাকি। এরপর হিসাববিজ্ঞানের ওপর কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় আমাকে। সবগুলোর উত্তর আমি যথাযথ দিই।

আমার তৃতীয় তম চাকরির ভাইভা পরীক্ষা

জনতা ব্যাংকের অফিসার পদে। এই ভাইভায় আমাকে জিজ্ঞেস করে, আপনি কি এর আগে চাকরি করেছেন? আমি উত্তরে বলি, কোনো স্থায়ী চাকরি করিনি। আমি যে কয়টি চাকরির ভাইভা দিয়েছি, সব কয় টির ভাইভা কয়েক দিনের ব্যবধানে হয়েছে (অর্থাৎ চূড়ান্ত ফল ওই সময় প্রকাশ হয়নি)। তবে আমি বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পে কাজ করেছি। এ সময় আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি কোন কোন প্রকল্পে কাজ করেছেন? তখন আমি উত্তর দিই, অনার্স পড়াশোনার সময় আর্সেনিক পরীক্ষাকরণ প্রকল্প, আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, পিকেএসএফের ঊহত্রপয (সমৃদ্ধি) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকল্পে বেশ কিছু দিন কাজ করেছি।

আরও পড়ুনঃ সেশনজটের কারণে সাত কলেজ ছেড়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

বোর্ডের অন্য এক সদস্য আমার কাছে জানতে চান, আপনি অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স করেছেন সুতরাং বলুন তো জনতা ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস কী? আমি সংক্ষেপে বলি, গ্রাহকের আমানত। এরপর আমাকে ‘সম্পদ’ ও ‘দায়’ সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রশ্ন করা হয়। আমি ঠিকঠাক উত্তর দিই।

আর আমার শেষ চাকরির ভাইভা পরীক্ষা

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান) ‘সহকারী ব্যবস্থাপক’ পদে।

আমি যে চারটি সরকারি চাকরির ভাইভা দিয়েছি, তার সব কয়টি চাকরিই পেয়েছি। এরপর আমি আর কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদনই করিনি।

আরও পড়ুনঃ প্রকাশিত সকল চাকরির পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ ২০২১ দেখুন

তথ্যসূত্রঃ কালের কন্ঠ

পোষ্টটি লিখেছেন

এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট। যার মূলমন্ত্র হাতের মুঠোয় শিক্ষামূলক সকল খবর। এডু হেল্পস বিডি এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সুন্দর কমিউনিটি তৈরি করা। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা ও লেখাপড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।

2 মন্তব্য

একটি মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

1 + 7 =