জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

0

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয় পদ্ধতি ২০২০-২০২১। GPA (Grade Point Average) জিপিএ এবং CGPA(Cumulative Grade Point Average) সিজিপিএ দুটি শব্দের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। তার মধ্যে জিপিএ আমরা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর হিসেব করতে পারলেও অনার্স, ডিগ্রী কিংবা মাস্টার্স এ এসে বুঝতে পারি না সিজিপিএ কিভাবে বের করব বা গননা করব।

চার বছরের কোর্সে প্রতি বছর আপনি যে মার্ক অর্জন করবেন সেটার গড়কে বলা হয় জিপিএ আর ৪ বছরের মোট রেজাল্টের গড়কে বলা হয় সিজিপিএ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম এবং সিজিপিএ নির্ণয় করার সকল নিয়মকানুন। আজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স, ডিগ্রী, মাস্টার্সের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয় করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো। আসুন জেনে নেওয়া যাক গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয় পদ্ধতিঃ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ নির্ণয়ঃ

⇒ ১ বছরের সিজিপিএ নির্ণযঃ এক বছরে মোট অর্জিত পয়েন্ট এক বছরে মোট অর্জিত ক্রেডিট।
⇒ ১ বছরে মোট অর্জিত পয়েন্টঃ কোন বিষয়ে প্রাপ্ত পয়েন্টকে ঐ বিষয়ের ক্রেডিট দিয়ে গুন। সকল বিষয়ের পয়েন্টকে তাদের ক্রেডিট দিয়ে গুন দিয়ে সব গুনফলকে যোগ করে যা পাওয়া যাবে সেটাই “এক বছরের মোট অর্জিত পয়েন্ট ”।
⇒ ১ বছরের মোট অর্জিত ক্রেডিটঃ পাশ কৃত সকল বিষয়ের ক্রেডিট যোগ করে যা পাওয়া যাবে সেটাই হল “এক বছরের মোট অর্জিত ক্রেডিট”।

উধারণ,

বিষয়ভিত্তিক পয়েন্ট × তার ক্রেডিটঃ
A-= 3.50×4 =14
B+=3.25×4=13
A+=4.00×4 =16
B+=3.25×4=13
A-=3.50×4=14
B+=3.25×4 =13

সুতরাং,

এখন মোট অর্জিত পয়েন্টঃ
14+13+16+13+14+13=83
এবং মোট অর্জিত ক্রেডিট হচ্ছেঃ 
4+4+4+4+4+4 = 24
মোট জিপিএ হলঃ 83÷24=3.45

চার বছরের সিজিপিএ নির্নয়ঃ চার বছরের মোট অর্জিত পয়েন্ট (প্রথম বর্ষ+২য় বর্ষ+৩য় বর্ষ+চতুর্থ বর্ষ) ÷ পুরো কোর্সের মোট অর্জিত ক্রেডিট সংখ্যা।
চার বছরের মোট অর্জিত পয়েন্টঃ জিপিএ নির্নয়ের প্রথম ধাপের ন্যায় সকল বর্ষের “মোট অর্জিত পয়েন্টস” গুলো পর পর যোগ করলে পাবেন চার বছরের মোট অর্জিত পয়েন্ট।
চার বছরের মোট অর্জিত ক্রেডিটঃ পুরো কোর্সের সকল পাশকৃত বিষয়ের ক্রেডিটের যোগ ফল হলো পুরো কোর্সের মোট অর্জিত ক্রেডিট।

উধারণ,

চার বছরের মোট অর্জিত পয়েন্টসঃ 83+85+81+79=328
চার বছরের মোট অর্জিত ক্রেডিটঃ 24+24+26+28=102
সুতরাং, মোট সিজিপিএঃ 328÷102=3.21

আসুন আরেকটু সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। নিচের দুইটি নিয়ম ফলো করলে খুব সহজে সিজিপিএ হিসাব করা যাবে। নিয়ম গুলো ভালোভাবে বুঝলেই খুব সহজে আপনার সিজিপিএ হিসাব করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষে প্রমোশনের অঙ্গীকারনামা জমার সময় বৃদ্ধি

প্রথম নিয়মঃ

আপনার সকল বিষয়ের ৪ ক্রেডিট অর্থাৎ ১০০ মার্ক হলে টোটাল পয়েন্ট যোগ করে মোট বিষয় দিয়ে ভাগ দিলে হবে যেমনঃ ৩+৩.৫০+২.৫০+২.৫০+৩.২৫+৩.২৫=১২ এবার ৬ দিয়ে ভাগ করলে জিপিএ ৩ আসবে।

দ্বিতীয় নিয়মঃ

১। ধরুন আপনার মোট বিষয় ৬ টি যেমন: হিসাববিজ্ঞান, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, অর্থনীতি,  ফিন্যান্স এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।

২। হিসাববিজ্ঞানের টোটাল মার্কস হলো ১০০ আর ক্রেডিট ৪, ম্যানেজমেন্ট এর মার্কস ১০০ আর ক্রেডিট ৪, মার্কেটিং এর টোটাল মার্কস ১০০ ক্রেডিট ৪, অর্থনীতির টোটাল মার্কস ১০০ আর ক্রেডিট ৪, ফিন্যান্স এর টোটাল মার্কস ১০০ ক্রেডিট ৪, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের টোটাল মাকর্স ১০০ ক্রেডিট ৪।

[এখন আপনার সর্বমোট ক্রেডিট হল ৪+৪+৪+৪+৪+৪=২৪]

৩। এখন, ধরে নিন আপনি হিসাববিজ্ঞানে B+ (3.25), ম্যানেজমেন্টে B (3.00), মার্কেটিং এ B (3.00),  অর্থনীতিতে C (2.25), ফিন্যান্স এ C+ (2.50), স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস B+ (3.25) পেয়েছেন।

৪। এখন কাজ হলো প্রত্যকটা বিষয়ের পয়েন্ট কে ঐ বিষয়ের ক্রেডিট দিয়ে গুন কর।। আসুন প্রত্যকটা বিষয়ের পয়েন্ট কে ঐ বিষয়ের ক্রেডিট দিয়ে গুন করা যাক।

হিসাববিজ্ঞান (৩.২৫ গুন ৪) =১৩, ম্যানেজমেন্ট (৩ গুন ৪) =১২, মার্কেটিং (৩ গুন ৪)=১২, অর্থনীতি (২.২৫ গুন ৪) =৯, ফিন্যান্স (২.৫০ গুন ৪)=১০, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস (৩.২৫ গুন ৪)= ১৩

[এখন আপনার টোটাল পয়েন্ট হলো। (১৩+১২+১২+৯+১০+১৩)=৬৯]

৫। এবার আসুন টোটাল পয়েন্ট কে, টোটাল ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করি। (৬৯/২৪)= ২.৮৭৫ বা ২.৮৮(প্রায়) ★ উক্ত ২.৮৮ হলো আপনার সিজিপিএ।  

আরও পড়ুনঃ অনার্স ৪র্থ বর্ষের চার বছরের (সিজিপিএ) আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে

নোটঃ যারা ইমপ্রুভ বা রিটেকের পর নতুন পয়েন্ট পেয়েছেন, তারা ঐ বিষয়ের আগের পয়েন্ট বাদ দিয়ে নতুন পয়েন্ট দিয়ে গননা করে নিবেন। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয়

Untitled design 3

অনার্স, ডিগ্রী ও মাস্টার্সের প্রতি বর্ষে সাবজেক্ট ভিত্তিক একটা ক্রেডিট থাকে। এটা আপনার সিলেবাসে প্রতিটা সাবজেক্ট এর পাশেই লেখা থাকে দেখবেন। কোর্স ভিত্তিক নাম্বারের ভিন্নতাও থাকতে পারে। সব কোর্স ১০০ নাম্বারের হয় না। কিছু কোর্স থাকে দুটো ৫০ করে ১০০ নাম্বার। এক ইয়ারে শিক্ষার্থীরা যে বিষয়গুলা পড়বে এদের প্রত্যেকটিকে একেকটি কোর্স বলা হয়।

তাহলে এখন ধরি কোন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে মোট ৬ টি বিষয়ে পড়ছেন। প্রত্যেকটা ৪ ক্রেডিট করে হলে মোট ২৪ ক্রেডিট হয়। এবার পরীক্ষায় প্রত্যেক বিষয়ে পেয়েছে ৪০ করে। তাহলে ৪০ পেলে ২ পয়েন্ট পেয়েছে প্রতি বিষয়ে। তাহলে ৬টি বিষয়ে পেয়েছে (৬*৮) মানে ৪৮ পয়েন্ট।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

উপরে একটু লক্ষ্য করুন প্রতিটা বিষয়ে এর পাশে ঠিক কত নাম্বার পেলে কত পয়েন্ট হবে সেটা দেয়া আছে। তাহলে ৪৮/২৪ তাহলে সিজিপিএ হয় ২।

এবার প্রতিটা বিষয়ে যদি কোন শিক্ষার্থী ৮০ নাম্বার করে পায় তাহলে পয়েন্ট প্রতিটায় হবে ১৬ করে। তাহলে ৬টি বিষয় কে গুণ করতে হবে ১৬ দিয়ে। মানে ১৬*৮= ১২৮/২৪= ৪ মানে সিজিপিএ ৪।

আমরা আশা করি যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং সিস্টেম ও সিজিপিএ নির্ণয় করার পদ্ধতি আগে জানতেন না তারা আমাদের এই লেখার মাধ্যমে অনেকটাই জানতে পেরেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষামূলক নোটিশ সবার আগে জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইট এর সাথে থাকুন৷

 

পোষ্টটি লিখেছেন

এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি
এডু হেল্পস বিডি শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ওয়েবসাইট। যার মূলমন্ত্র হাতের মুঠোয় শিক্ষামূলক সকল খবর। এডু হেল্পস বিডি এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সুন্দর কমিউনিটি তৈরি করা। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা ও লেখাপড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।